দোষীদের বিরুদ্ধে ,কয়েক বছর ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাধু, বাউল, ফকির ও লালনসংগীতশিল্পীরা তাঁদের চর্চা চালিয়ে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। এমনকি তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চুয়াডাঙ্গায় বাউলদের আখড়াবাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।

দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক
এ নিয়ে সে সময় লিখেছিল, যেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। সর্বশেষ নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় লালনসংগীতশিল্পীদের একটির আখড়ায় হামলা হয়েছে।সেখানে শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা তবলা, হারমোনিয়ামের দৃশ্য দেখলে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত
হতে হয়। এমন ঘটনা উদ্বেগজনক।উপজেলার পাটুলি ইউনিয়নের বাবলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তির ড্রাগনবাগানের এক কোণে সেখানকার লালনসংগীতপ্রেমীরা একটি আখড়া গড়ে তোলেন। সেখানে বিভিন্ন সময় ছোট পরিসরে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।গত বুধবার সুমন মিয়া নামের এক লালনভক্ত ব্যবসায়ীর স্মরণে একটি সাধুসঙ্গের আয়োজন করা
হয়। সেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ১০-১২ জন লালনসংগীতশিল্পী যোগ দিয়েছিলেন। স্থানীয় এক যুবক মদ্যপ অবস্থায় সেখানে গিয়ে উৎপাত শুরু করলে শিল্পীরা তাঁকে বাগানের বাইরে বের করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক কিছুক্ষণ পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হামলা চালিয়ে শিল্পীদের ব্যবহৃত অন্তত ২০টি বাদ্যযন্ত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। গুঁড়িয়ে দেওয়া

বাদ্যযন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, ডুগি, হাতবাড়া, খমক, দোতারা, সারিন্দা, গিটার ও বাঁশি।এ ঘটনার ভুক্তভোগী শিল্পী খোকন চিশতী দুঃখ করে বলেন, ‘ভেঙে দেওয়া আমার ব্যবহৃত সারিন্দাটি ছিল অন্তত ১৫০ বছরের পুরোনো। আমি আমার গুরুর কাছ থেকে আশীর্বাদস্বরূপ এটি পেয়েছিলাম। এমন একটি সারিন্দা আমি আর কোথায় পাব? আমাকে
মারধর করলেও এত কষ্ট পেতাম না, যতটা এই সারিন্দা হারিয়ে পাচ্ছি।’ তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা আশা করব, বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।ভাঙা বাদ্যযন্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। সচেতন
নাগরিক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।এ জন্য পুলিশ প্রশাসনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা দেখে আসছি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি হয় না। এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেন তেমন না হয়, সেটাই প্রত্যাশিত।

আরও পড়ুন:
১ thought on “দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক”