আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নরসিংদী জেলার পেশা।
নরসিংদী জেলার পেশা:-
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে নরসিংদী জেলার একটি বিশেষ এবং উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্য হচ্ছে তাঁত শিল্প। প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার বলে খ্যাত শেখের চর(বাবুর হাট) এ জেলায় অবস্হিত। বাংলাদেশের বস্ত্র চাহিদার প্রায় সিংহভাগ পূরণ হচ্ছে এ বাবুর হাট(শেখেরচর) থেকে।রপ্তানি বাণিজ্যের অনেক শিল্প কারখানা এখানে গড়ে উঠেছে।
যথা: থার্মেক্স গ্রুপ, জুয়েল ভুইয়া গ্রুপ, ভাই ভাই গ্রুপ (স্মার্ট লুঙ্গি, আমানত শাহ লুঙ্গি)সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।ফলমূল ও সবজি উৎপাদন এবং বিক্রয়ে এ জেলার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।যথা: কলা, লটকন, আনারস, কাঁঠাল, বেগুন, কাকরল, বরবটি, শশা,পেপেঁ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্যে। এছাড়া সোনালী আঁশ পাট উৎপাদন ও ক্রয় বিক্রয় প্রতিষ্ঠা্ন এ জেলায় বিদ্যমান।

শিল্প
প্রাচীনকাল থেকেই নরসিংদী অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী ছিল। তাঁতশিল্প এর প্রধান হাতিয়ার। নরসিংদীর মাধবদী হলো কাপড় উৎপাদন করার মূল কেন্দ্র। মাধবদী এলাকার মানুষদের প্রথম ব্যবসা হলো কাপড় উৎপাদন করা। যেকোনো ধরনের কাপড় এখানে উৎপাদন করা হয়। এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে টেক্সটাইল মিল রয়েছে। এবং বাবুরহাট হলো বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ পাইকারি কাপড়ের বাজার। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ এখান থেকে পাইকারি কাপড় কিনে নিয়ে যায়। এবং অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে থাকে।

কৃষি
বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থায় নরসিংদী জেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলার উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। নরসিংদী জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত কৃষিপণ্য বা ফল হল কলা। এছাড়াও বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লটকন উৎপাদিত হয় নরসিংদী জেলায়। এখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষক।
- প্রধান ফসল: ধান, গম, আলু, সরিষা, চীনাবাদাম, বেগুন, বিভিন্ন ধরনের সবজি।
- লুপ্ত বা লুপ্ত প্রায় শস্যাদি: মসিনা, কাউন, আউশ ও আমন ধান, পাট ও অড়হর ডাল।
- প্রধান ফল: কলা, কাঁঠাল, আম, জাম, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, কুল, লটকন ও তরমুজ।

আরও পড়ুনঃ
